সংগঠন পরিচিতি

কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন

কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২৭ আগস্ট ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান রক্তের জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড় করানো, তরুণ সমাজকে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং একটি সচেতন, মাদকমুক্ত ও সহমর্মী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। আমাদের প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ বিশ্বাস—সময়মতো একজন রক্তদাতা একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন।

সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতাগণ

যাঁদের স্বপ্ন ও শ্রমে গড়া

যাঁরা সংগঠনের মূল ভিত্তি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিরস্থায়ীভাবে স্বীকৃত থাকবেন

তানভীর রহমান শিপুপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উদ্যোক্তা

তানভীর রহমান শিপু

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উদ্যোক্তা

মুরসালিন আহমেদসহ-প্রতিষ্ঠাতা

মুরসালিন আহমেদ

সহ-প্রতিষ্ঠাতা

হায়দার আলী সোহেলসহ-প্রতিষ্ঠাতা

হায়দার আলী সোহেল

সহ-প্রতিষ্ঠাতা

সংগঠনের পরিচিতি

আমাদের আত্মপরিচয়

সংগঠনের সম্পূর্ণ পরিচিতি — বর্ণনামূলক প্যারাগ্রাফ আকারে

নাম, ধরন ও প্রতীক পরিচিতি

সংগঠনের পূর্ণ বাংলা নাম ‘কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন’। সকল দাপ্তরিক নথিপত্র, ব্যানার, পোস্টার এবং প্রচারমূলক কাজে এই নামটি ব্যবহার করা হয়। নামের মর্যাদা ও বিশুদ্ধতা রক্ষা করা সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের কর্তব্য। কোনো অবস্থাতেই মূল নামের বিকৃতি বা পরিবর্তন করে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না। এটি নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার একটি স্বতন্ত্র অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

সংগঠনের পূর্ণ ইংরেজি নাম ‘Kalmakanda Youth Blood Donate Foundation’। সংগঠনের সকল প্রকার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পত্রপত্রিকায় এই ইংরেজি নাম ব্যবহার করা হয়। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত নাম হলো ‘KYBDF’, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক সংলাপে ব্যবহার করা হয়।

সংগঠনের ধরন — এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী, অলাভজনক, মানবিক, রক্তদান, সেবামূলক, যুব ও সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের অনুসারী নয়। এর মূল ভিত্তি হলো নিঃস্বার্থ মানবসেবা।

সংগঠনের মূলমন্ত্র বা প্রতীক হলো ‘রক্তদানে এগিয়ে আসুন, মাদককে না বলুন’। এই প্রতীক সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের আদর্শ হিসেবে গণ্য হয় এবং সকল প্রচারণায় এটি ব্যবহৃত হয়।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২৭ আগস্ট, ২০২৩ ইংরেজি তারিখে। এই তারিখটি প্রতি বছর ‘সংগঠন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠার পূর্বে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় কোনো দায়িত্বশীল রক্তদান সংগঠন ছিল না। যার ফলে উপজেলার মুমূর্ষু রোগীরা রক্তের অভাবে অনেক কষ্ট করতেন। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা নিয়মিত রক্তের অভাবে কষ্ট পেতেন, প্রসূতি মায়েরা সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রক্তের অভাবে জীবন সংকটে পড়তেন, জরুরি রোগীরা দুর্ঘটনার হাসপাতালে ছুটে গিয়েও রক্ত না পেয়ে মৃত্যুবরণ করতেন। এই বাস্তবতা প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্বুদ্ধ করে একটি সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ মানবিক রক্তদান সংগঠন গড়ে তোলার জন্য।

এমতাবস্থায়, কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতাগণ প্রধান উদ্যোক্তা হয়ে আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে যাত্রা শুরু করেন। মাত্র ৭ জন স্বেচ্ছাসেবকের হাত ধরে এই সংগঠনের জন্ম।

কার্যালয়, যোগাযোগ ও স্থায়িত্ব

সংগঠনের প্রধান কার্যালয় নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা সদরে অবস্থিত। তবে সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রমের সুবিধার্থে বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে যে কোনো সময় কার্যালয় পরিবর্তন বা নতুন উপ-কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

সংগঠনের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর ০১৭৩৬-৫৬৭৬২০, অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও একই। অফিসিয়াল ইমেইল kalmakandaybd@gmail.com।

এটি একটি সম্পূর্ণ স্থায়ী সামাজিক ও মানবিক সংগঠন। সংগঠনটি মানবতার সেবা এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্থায়ীভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবে। এই সংগঠনটি সম্পূর্ণরূপে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সংগঠনের সকল আয়, অনুদান, তহবিল বা সম্পদ শুধুমাত্র সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যয় করা হয়। কোনো অবস্থাতেই সংগঠনের আয় বা সম্পদ কোনো সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে লাভ হিসেবে বণ্টন করা যায় না।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি

কেন এই সংগঠন প্রয়োজন ছিল

প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

কলমাকান্দা উপজেলায় সঠিক রক্তদান ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিন অনেক রোগী মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছিলেন। এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

  • থ্যালাসেমিয়া রোগীদের দুর্দশা: নিয়মিত রক্তের অভাবে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা চরম কষ্ট পেতেন।
  • প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি: সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রক্তের অভাবে প্রসূতি মায়েরা জীবন সংকটে পড়তেন।
  • দুর্ঘটনার রোগীদের ভোগান্তি: জরুরি রোগীরা হাসপাতালে ছুটে গিয়েও রক্ত না পেয়ে মৃত্যুবরণ করতেন।
  • সুসংগঠিত সংগঠনের অভাব: উপজেলায় কোনো দায়িত্বশীল রক্তদান সংগঠন ছিল না।

এই বাস্তবতা প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্বুদ্ধ করে একটি সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ মানবিক রক্তদান সংগঠন গড়ে তোলার জন্য।

রক্তদান প্রয়োজনীয়তা
রক্তের প্রয়োজনে পাশে থাকা
প্রতীকের বিশ্লেষণ

আমাদের লোগোর প্রতীকী অর্থ

লোগোর প্রতিটি উপাদানের গভীর অর্থ রয়েছে — যা আমাদের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতিফলন

KYBDF লোগো
উপরের সবুজ বৃত্ত সবুজ অর্ধবৃত্তে বাংলায় সাদা রঙে লেখা — "কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন"
নিচের লাল বৃত্ত নিচের লাল অর্ধবৃত্তে ইংরেজিতে সাদা রঙে লেখা — "KALMAKANDA YOUTH BLOOD DONATE FOUNDATION"
পালস লাইন বৃত্তের মাঝখানে ধূসর বা সাদা রঙের হৃৎস্পন্দনের রেখা — যা জীবন ও রক্তদানের প্রতীক
রক্তবিন্দু প্রতীক কেন্দ্রে বড় রক্তবিন্দুর প্রতীক — যা রক্তদানের ধারণাকে ধারণ করে। উজ্জ্বল লাল ও গাঢ় কমলা ছায়া ব্যবহার করা হয়েছে
মূলমন্ত্র ও স্লোগান বাংলা স্লোগান "রক্তদানে এগিয়ে আসুন, মাদককে না বলুন" এবং ইংরেজি "Come Forward to Donate Blood, Say no to Drugs"
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত

১. রক্তদান সংক্রান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

  • নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত ও উৎসাহিত করা।
  • রক্তদান নিয়ে বিস্তৃত সচেতনতা তৈরির কাজ করা (মেডিকেল ক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং, পোস্টার বিতরণ, অনলাইন প্রচার ইত্যাদি)।
  • নতুন রক্তদাতা তৈরি ও রক্তদাতার ভয় দূর করা।
  • জরুরি প্রয়োজনে রোগী ও সম্ভাব্য রক্তদাতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা।
  • বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা।
  • বিশেষ রোগীদের জন্য রক্তদানের ব্যবস্থা করা (থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, অ্যানিমিয়া)।
  • সিজারিয়ান অপারেশনের রোগীর জন্য প্রস্তুত রক্তদাতার ব্যবস্থা করা।
  • উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো।

২. সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সংক্রান্ত লক্ষ্য

  • যুব সমাজকে মাদক ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রেখে মানবিক সেবায় উদ্বুদ্ধ করা।
  • সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ ও দুর্যোগে সহায়তা প্রদান করা।
  • অসহায়, দুস্থ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো।
  • পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

৩. সাংগঠনিক ও সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত লক্ষ্য

  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানবসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম), ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশ ও বিদেশের সব সদস্যের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা।
  • বিভিন্ন স্কুল-কলেজে রক্তদান নিয়ে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম করা।
  • প্রতি বছর একবার মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা।

৪. অতিরিক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

  • রক্তদান বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা (First Aid, রক্তদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা, রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ)।
  • সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান।
  • এতিম ও অসহায় শিশুদের সহায়তা করা।
  • বয়স্ক ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা।
  • নারী ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন।
  • স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
সাংগঠনিক কার্যক্রম

অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম

সংগঠনের কার্যক্রম প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত

অনলাইন কার্যক্রম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার: ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারণা চালানো হয়।
  • অনলাইন রক্ত সংগ্রহ: জরুরি রক্ত প্রয়োজনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত পোস্ট শেয়ার করা এবং ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে রক্তদাতার সাথে রোগীর স্বজনদের তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন করা।
  • ডিজিটাল প্রচারণা: গ্রাফিক ডিজাইন, সচেতনতামূলক ভিডিও এবং পোস্টারের মাধ্যমে রক্তদানের উপকারিতা সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া।
  • সদস্য সমন্বয়: যেহেতু অনেক সদস্য এলাকার বাইরে অবস্থান করেন, তাই অনলাইন সদস্য সমন্বয় ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
অনলাইন কার্যক্রম
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

অফলাইন কার্যক্রম

সরাসরি সামাজিক ও মানবিক সেবার মাধ্যমে সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হয়।

  • সরাসরি রক্তদান: সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান কর্মসূচি পালন করা এবং সদস্যদের রক্তদানে উৎসাহিত করা।
  • সচেতনতা বৃদ্ধি: পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রক্তদান বিষয়ক সভা, সেমিনার এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করা।
  • মানবিক ও সামাজিক সেবা: বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ কর্মসূচি, অসুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা।
  • দুর্যোগকালীন সহায়তা: বন্যা, মহামারী, অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
  • যুব সমাজকে সম্পৃক্তকরণ: যুবকদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
অফলাইন কার্যক্রম
সরাসরি মানবসেবা
সদস্যপদ

সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা

সদস্যপদের বিস্তারিত বিবরণ

সদস্যপদের ধরন

সংগঠনের কার্যক্রম ও পরিচালনার সুবিধার্থে সদস্যদের দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে — স্থায়ী সদস্য ও সাধারণ সদস্য।

স্থায়ী সদস্য: সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মক্ষম স্থ হলো স্থায়ী সদস্যপদ। যারা সংগঠনের আদর্শে পূর্ণ বিশ্বাস রেখে নিয়মিতভাবে রক্তদান করেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সরাসরি শারীরিক ও আর্থিকভাবে অবদান রাখেন, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ী সদস্য নির্বাচন করা হয়।

সাধারণ সদস্য: সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি একাত্মতা পোষণ করেন কিন্তু অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত রয়েছেন, তারা সাধারণ সদস্য হিসেবে গণ্য হন।

সদস্যপদ
সদস্যদের পরিবার

স্থায়ী সদস্যের অধিকার

  • সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ইউনিয়ন কমিটির নির্বাচনে ভোট প্রদানের পূর্ণ অধিকার
  • যোগ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো সাংগঠনিক পদে প্রার্থী হওয়ার অধিকার
  • সংগঠনের নীতি নির্ধারণী সভা বা সাধারণ সভায় যেকোনো প্রস্তাব উত্থাপন ও মতামত প্রকাশের অধিকার
  • সংগঠনের আয় এবং কার্যক্রমের যেকোনো সঠিক তথ্য বা নথিপত্র দেখার অধিকার
  • সংগঠনের পক্ষ থেকে যেকোনো জাতীয় বা আঞ্চলিক সেমিনারে বা প্রোগ্রামে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ
  • সংগঠনের লোগো সংবলিত স্থায়ী সদস্য পরিচয়পত্র (ID Card) প্রাপ্তির অধিকার
  • স্বেচ্ছাসেবী কাজে বিশেষ অবদান রাখলে সংগঠন কর্তৃক সনদপত্র প্রদান

স্থায়ী সদস্যের দায়িত্ব

  • সংগঠনের মূল গঠনতন্ত্রের সকল ধারা ও উপধারা আন্তরিকতার সাথে মেনে চলা
  • সংগঠনের সকল সাধারণ ও জরুরি সভায় উপস্থিত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়া
  • শারীরিক সক্ষমতা থাকলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তদান করা এবং অন্যদের উৎসাহিত করা
  • সংগঠনের মাসিক বা বার্ষিক নির্ধারিত টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা ও তহবিল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা (শিক্ষার্থী ও নারী সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়)
  • ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে এমন কোনো কাজ না করা যাতে সংগঠনের সম্মান বা ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয়
  • সংগঠনের ভিতরের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও চেইন অফ কমান্ড মেনে চলা

সাধারণ সদস্যের অধিকার

  • সংগঠনের সাধারণ সভা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার
  • সাধারণ সভায় ভোট প্রদানের অধিকার
  • সংগঠনের উন্নয়নমূলক প্রস্তাব উপস্থাপনের অধিকার
  • রক্তদান বা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সংগঠনের নেটওয়ার্ক ও লজিস্টিক সহায়তা পাওয়া
  • সংগঠনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা সচেতনতামূলক প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারা
  • সংগঠনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে গঠনমূলক আলোচনা ও মতামত প্রদানের সুযোগ

সাধারণ সদস্যের দায়িত্ব

  • জরুরি রক্তের প্রয়োজনে অনলাইন গ্রুপে সক্রিয় থাকা এবং দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে সহায়তা করা
  • সংগঠনের পোস্ট, ব্যানার বা সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বাস্তবের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া
  • সংগঠনের মূল স্লোগান 'রক্তদানে এগিয়ে আসুন, মাদককে না বলুন' নিজের জীবনে চলা এবং সমাজের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া
  • সংগঠনের অনলাইন গ্রুপের নিয়মাবলী মেনে চলা এবং গ্রুপের পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো পোস্ট বা কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকা
  • সংগঠনের সাথে নতুন ও সক্রিয় রক্তদাতা এবং স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভূমিকা পালন করা
  • সংগঠনের আয়োজিত বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচীতে সহায়তা করা

সাধারণ সদস্যের সীমাবদ্ধতা

  • সাধারণ সদস্যরা ভোট প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু তারা সংগঠনের কোনো সাংগঠনিক পদে প্রার্থী হতে পারবেন না
  • সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় সিদ্ধান্ত বা নীতি নির্ধারণী সভায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না
  • সংগঠনের কোনো দাপ্তরিক বা আর্থিক নথিপত্রে সাধারণ সদস্যরা স্বাক্ষর করতে পারবেন না
  • সাধারণ সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত থাকবেন। প্রতি মাসে নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক স্থায়ী সদস্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হবে

স্থায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্যতা

  • সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মক্ষম স্থ হলো স্থায়ী সদস্যপদ
  • যারা সংগঠনের আদর্শে পূর্ণ বিশ্বাস রেখে নিয়মিতভাবে রক্তদান করেন
  • সাংগঠনিক কার্যক্রমে সরাসরি শারীরিক ও আর্থিকভাবে অবদান রাখেন
  • তাদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ী সদস্য নির্বাচন করা হয়
  • সংগঠনের সকল নীতি নির্ধারণী আলোচনা, নির্বাচন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণের পূর্ণ অধিকার থাকে
  • স্থায়ী সদস্যদের সক্রিয়তা ও মতামতের ভিত্তিতেই সংগঠন পরিচালিত হয়
আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা

সংগঠনের নিয়ম-শৃঙ্খলা

সংগঠনের আচরণবিধি, পদত্যাগ, বহিষ্কার ও বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়মাবলী

আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা

সংগঠনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কঠোর আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা নীতি পালন করা হয়।

  • কোনো সদস্য সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বা ক্ষতিকর তথ্য প্রচার করা যাবে না।
  • কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে সংগঠনের পরিচয়, নাম, লোগো বা সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • সংগঠনে বড়-ছোট মান্য করে চলতে হবে। বড়-ছোট হিসাব করা হবে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে।
আচরণবিধি
শৃঙ্খলা ও সততা

পদত্যাগ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ

সংগঠনের কোনো সদস্যের সদস্যপদ নিম্নলিখিত কারণে বাতিল হতে পারে:

  • স্বেচ্ছায় পদত্যাগ: কোনো সদস্য ব্যক্তিগত কারণে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে পরিচালনা পরিষদ বরাবর লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। পরিচালনা পরিষদ তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে।
  • শৃঙ্খলা ভঙ্গ: সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কোনো কাজ করা, সংগঠনের গোপনীয়তা ফাঁস করা অথবা সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়াকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে।
  • অনুপস্থিতি: কোনো সদস্য কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে পরিচালনা পরিষদ তাকে প্রথমবার সতর্ক করবে।
  • মাদকাসক্তি: যদি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।
  • রাজনৈতিক প্রভাব: সংগঠনের সকল সদস্যকে সমানভাবে সম্মান ও মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।
  • জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ প্রভাব: সংগঠনের সকল স্থায়ী সদস্যদের সম্মান সমান থাকবে। কোনো পুরাতন সদস্য নতুন সদস্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না।
  • পদ বা দায়িত্বগত মূল্যায়ন: কোনো নতুন সদস্যকে যদি দায়িত্বশীল পদ বা উপরের পদ দেওয়া হয় তাহলে তার সিদ্ধান্ত সবাই মানতে বাধ্য থাকবে।

বহিষ্কারের ক্ষমতা ও কারণ দর্শানোর সুযোগ

সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সংহতি রক্ষায় বহিষ্কার সংক্রান্ত বিশেষ বিধিমালা নিম্নরূপ:

  • প্রতিষ্ঠাতাদের বিশেষ ক্ষমতা: সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাগণ সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সদস্যকে (স্থায়ী বা সাধারণ) বহিষ্কারের পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। যদি দেখা যায় কোনো সদস্যের কারণে সংগঠনের অগ্রগতি বা ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে, তবে প্রতিষ্ঠাতাগণ যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করতে পারবেন।
  • কারণ দর্শানোর সুযোগ: শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কাউকে বহিষ্কারের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য একটি সুযোগ দেওয়া হবে। তাকে একটি নোটিশের মাধ্যমে 'কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে না' এই মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হবে। এবং সর্বোচ্চ ১-৩ দিনের ভিতরে নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।
  • কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব: কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের ১-৩ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সদস্য জবাব দিতে হবে এবং নোটিশ কারণ দর্শানোর নোটিশ স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির বরাবর পেশ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে জবাব না দিলে অভিযুক্ত দোষী গণ্য হবেন এবং তাকে বহিষ্কার করা হবে।
  • সিদ্ধান্ত: পরিচালনা পরিষদ জবাব পাওয়ার সাথে সাথে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন। উক্ত সিদ্ধান্ত যদি বহিষ্কার করা অথবা নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয় এটা ফাইনাল বলে গণ্য হবে। তবে সদস্য বহিষ্কারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিভাগীয় পরিচালকের স্বাক্ষর লাগবে ও অফিসিয়াল পত্র তাকে প্রদান করতে হবে।
  • তদন্ত কমিটি: গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদ একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
  • আপিল: বহিষ্কৃত সদস্য যদি মনে করেন তার সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তবে তিনি প্রতিষ্ঠাতা বা তাদের অবর্তমানে নির্বাহী পরিচালকের কাছে পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন (আপিল) করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা বা তার অবর্তমানে নির্বাহী পরিচালকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

বিরোধ নিষ্পত্তি ও তদন্ত প্রক্রিয়া

সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যেকোনো বিরোধ নিরসনে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়:

  • প্রাথমিক সমাধান: সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে তা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
  • লিখিত উপস্থাপন: আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সন্তোষজনক না হলে বিষয়টি লিখিতভাবে পরিচালনা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করতে হবে।
  • তদন্ত কমিটি: প্রয়োজনে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত/তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
  • তদন্ত প্রক্রিয়া: অভিযুক্ত সদস্যকে লিখিতভাবে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করতে হবে। নিরপেক্ষ সদস্যদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
  • অভ্যন্তরীণ বিরোধ: সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ, মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে তা সমাধানের জন্য একটি নিরপেক্ষ বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে ন্যায়, নিরপেক্ষ ও সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

সদস্য উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ

সংগঠনের কার্যক্রমের গতিশীলতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সদস্য উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

  • সদস্য উন্নয়নের উদ্দেশ্য: সংগঠনের সদস্যদের জ্ঞান, দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা।
  • প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা: সদস্যদের জন্য নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার ও দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।
  • নতুন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন: নতুন সদস্যদের জন্য একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যেখানে তাদের সংগঠনের উদ্দেশ্য, কাঠামো, বিধি-বিধান, দায়িত্ব ও আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে।
  • দক্ষতা উন্নয়ন: সদস্যদের যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
  • মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: সংগঠনের কার্যক্রম ও অবদানের ভিত্তিতে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে এবং উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাদের স্বীকৃতি বা পুরস্কার প্রদান করা হবে।
  • নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: নারী, যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণির সদস্যদের সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করা হবে।
নির্বাচন পদ্ধতি

স্বচ্ছ ও ন্যায্যভিত্তিক নির্বাচন

কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন ও মনোনয়ন পদ্ধতি

নির্বাচনের ধাপসমূহ

প্রার্থীর যোগ্যতা০১

প্রার্থীর যোগ্যতা

প্রার্থীকে অবশ্যই স্থায়ী সদস্য হতে হবে এবং গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠন০২

নির্বাচন কমিশন গঠন

নির্ধারিত সময়ের আগে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

ভোটাধিকার০৩

ভোটাধিকার

যোগ্য স্থায়ী ও সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোটাধিকার থাকবে না।

ভোটার তালিকা০৪

ভোটার তালিকা

নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকে।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত০৫

নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মনোনয়ন যাচাই শেষে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

শপথ গ্রহণ০৬

শপথ গ্রহণ

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ পাঠ করানো হবে।

নির্বাচন
স্বচ্ছ নির্বাচন
আর্থিক ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা

আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

আর্থিক বিধানসমূহ

ব্যাংক হিসাব ও যৌথ স্বাক্ষর

  • ব্যাংক হিসাব: সংগঠনের সকল অর্থ নিরাপদ রাখার জন্য কলমাকান্দা সদরের যেকোনো একটি তফসিলি ব্যাংকে 'Kalmakanda Youth Blood Donate Foundation' নামে একটি চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাব থাকবে।
  • সকল বড় লেনদেন: সংগঠনের সকল বড় লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। নগদ অর্থ খুুব প্রয়োজন ছাড়া হাতা-হাতি যাবে না এবং ক্যাশ-ইন-হ্যান্ডের একটি নির্দিষ্ট সীমা পরিচালনা পরিষদ নির্ধারণ করে দেবে।
  • যৌথ স্বাক্ষর: আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের হিসাবটি 'যৌথ স্বাক্ষর' পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। সাধারণত তিনজন স্বাক্ষর নমুনা হিসেবে থাকবেন — সভাপতি/নির্বাহী পরিচালক, সাধারণ সম্পাদক/উপ-নির্বাহী পরিচালক, অর্থ সম্পাদক/পরিচালক (হিসাব বিভাগ)।
  • অর্থ উত্তোলন: যেকোনো অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অর্থ সম্পাদক/হিসাব বিভাগের পরিচালকের স্বাক্ষর আবশ্যক এবং তার সাথে সভাপতি/নির্বাহী পরিচালক অথবা উপ-নির্বাহী পরিচালক/সাধারণ সম্পাদকের যেকোনো একজনের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা
স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থা

হিসাব ও অডিট

  • সংগঠনের সকল প্রকার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • হিসাব বিভাগের পরিচালক নিয়মিত ক্যাশ বুক বা হিসাবের খাতা আপডেট রাখবেন। এতে আয়ের তারিখ, দাতার নাম এবং ব্যয়ের খাত স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া কম্পিউটারের ওয়েবসাইট বা এজেল ফাইলে হিসাব সংরক্ষিত থাকবে।
  • প্রতি মাসের ০১ (এক) তারিখে পূর্ববর্তী মাসের আয়-ব্যয়ের রিপোর্ট হিসাব বিভাগের পরিচালক স্থায়ী সদস্যদের ও সকল কমিটির কাছে অর্থ সম্পাদকগণ হিসাব পেশ করবেন।
  • প্রতি বছর সংগঠনের বার্ষিক আলোচনা সভার আগে পরিচালনা পরিষদ ও কার্যকরী পরিষদের সমন্বয়ে একটি অভ্যন্তরীণ অডিট বা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে যাতে তহবিলে কোনো অপব্যবহার না হয়।
  • অডিট পরিচালনার ক্ষেত্রে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
  • অডিট রিপোর্ট বার্ষিক আলোচনা সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন করতে হবে।

তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারের নীতি

তহবিল সংগ্রহের অনুমোদিত উৎস:

  • স্থায়ী সদস্যদের মাসিক নির্ধারিত চাঁদা।
  • সাধারণ সদস্যদের স্বেচ্ছামূলক অনুদান।
  • ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনুদান।
  • কর্পোরেট স্পনসরশিপ (যেমন: ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, দোকানপাট)।
  • প্রকল্পভিত্তিক সরকারি বা বেসরকারি অনুদান।
  • অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং (Go Fund Me, Ketabon ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে)।
  • উদ্যোগ বা ইভেন্ট আয়োজন থেকে প্রাপ্ত আয় (যেমন: চাঁদা তোলা, মিলনমেলা)।

তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও সীমাবদ্ধতা:

  • সংগঠনের যেকোনো ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের ভাউচার, রশিদ ও বিল সংরক্ষণ করতে হবে।
  • ব্যক্তিগত খরচ, বিনোদন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তহবিল ব্যবহার করা যাবে না যা সংগঠনের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
  • বছরের মোট তহবিলের সর্বোচ্চ ৩০% ব্যয় করা যাবে এবং জরুরি প্রয়োজন হলে পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সীমা অতিক্রম করা যাবে, তবে পরবর্তী সাধারণ সভায় তা যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করতে হবে।
  • বার্ষিক অডিট যথাযথভাবে সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সংগঠনের তহবিলের বাইরে কোনো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া যাবে না।

জরুরি তহবিল: সংগঠনের নির্ধারিত তহবিলের একটি অংশ (সর্বনিম্ন ০৫%) 'জরুরি তহবিল' হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। জরুরি তহবিল কেবল সাংগঠনিক সংকট, দুর্যোগকালীন সহায়তা বা চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যবহার করা যাবে; অন্য কোনো কাজে তা ব্যবহার করা যাবে না।

সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

সভার ধরন ও কোরাম

সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিধান

সভার প্রকারভেদ

  • কার্যনির্বাহী সভা: কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, ছোটো-বড় নীতি নির্ধারণ এবং আসন্ন কর্মসূচি সফল করতে এই সভা করা হয়। প্রতি মাসে অন্তত একবার এই সভা আয়োজন করা বাধ্যতামূলক।
  • সাধারণ সভা: সংগঠনের সকল স্তরের সদস্য (প্রতিষ্ঠাতা, স্থায়ী ও সাধারণ) এই সভায় উপস্থিত থাকেন। সাধারণত বছরে ৩ বার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ, আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা হয়।
  • বার্ষিক আলোচনা সভা: বছরে একবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের বার্ষিক মিলন মেলা ও আলোচনা সভা একসাথে করা যাবে। সংগঠনের সকল স্থায়ী সদস্য, সাধারণ সদস্য, উপদেষ্টা ও শুভাকাঙ্ক্ষী এই সভায় উপস্থিত থাকবেন।
  • জরুরি সভা: যেকোনো বিশেষ বা সংকটকালীন মুহূর্তে (যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংগঠনের জরুরি সঙ্কট বা তাৎক্ষণিক নীতি নির্ধারণ) সভাপতি বা পরিচালনা পরিষদের নির্দেশে অত্যন্ত সময়ের নোটিশে এই সভা আহ্বান করা যাবে।
সভা
সিদ্ধান্ত গ্রহণ

কোরাম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

  • কার্যনির্বাহী সভার কোরাম: কমপক্ষে ৪০% সদস্য উপস্থিত থাকতে হবে।
  • সাধারণ সভার কোরাম: কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (৫০% এর কম নয়) সদস্য উপস্থিত থাকতে হবে।
  • আলোচনা সভা: আলোচনা সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। শুধুমাত্র অতীতের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।
  • জরুরি সভা: জরুরি সভার কোরামে পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিত থাকতে কম কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অবশ্যই ৩০% সদস্য উপস্থিত থাকতে হবে।
  • কোরাম পূর্ণ না হলে: যদি কোরাম পূর্ণ না হয়, তবে সভা স্থগিত করে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করা হবে। স্থগিত সভাতে পুনরায় কোনো কোরাম প্রয়োজন হবে না।

অনলাইন ও ডিজিটাল কার্যক্রম

  • আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সংগঠনের সভা এখন দুই প্রকার হতে পারে — অফলাইন সভা ও অনলাইন সভা।
  • অফলাইন সভা: শারীরিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থেকে সভা করা। এসব দাঙ্গুর কাজে জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য।
  • অনলাইন সভা: জুম (Zoom), গুগল মিট (Google Meet) বা ফেসবুক গ্রুপ/হোয়াটসঅ্যাপ অডিও/ভিডিও কলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভা।
  • সংগঠনে অনেক সদস্য এলাকার বাইরে অবস্থান করেন, তাই অনলাইন সভার সিদ্ধান্তগুলোও অফলাইন সভার মতো সমান বৈধ এবং কার্যকর বলে গণ্য হবে, যদি সভায় কোরাম উপস্থিত থাকে।
  • ডিজিটাল প্রোগ্রামে গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অনলাইন ভোটিং পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হবে।
নথিপত্র সংরক্ষণ

নথিপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা

নথিপত্র সংরক্ষণের বিধান

সংরক্ষণযোগ্য নথিপত্র

সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।

  • সকল সভার কার্যবিবরণী (Minutes)।
  • নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তসমূহ।
  • বার্ষিক ও বিশেষ প্রতিবেদন।
  • আর্থিক হিসাব, ভাউচার, রিসদ ও অডিট রিপোর্ট।
  • সদস্যদের তালিকা ও তথ্য।
  • প্রকল্প ও কার্যক্রম সংক্রান্ত দলিলপত্র।
  • চিঠিপত্র, নোটিশ ও অফিসিয়াল যোগাযোগ।

সংরক্ষণ পদ্ধতি: নথিপত্র লিখিত (Hard Copy) এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল (Digital) উভয় মাধ্যমেই সংরক্ষণ করা হবে। সংবেদনশীল নথিপত্র যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া তা প্রকাশ করা যাবে না।

সংরক্ষণের সময়সীমা: গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং আর্থিক নথিপত্র কমপক্ষে ২ (দুই) বছর সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক হবে। ডিজিটাল ব্যাকআপ সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা বা ক্ষতির ক্ষেত্রে তথ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।

নথিপত্র
নিরাপদ নথিপত্র
সংশোধন ও বিলুপ্তি

গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সংগঠনের বিলুপ্তি

সংশোধন ও বিলুপ্তির বিধান

নীতিমালা প্রণয়ন ও গঠনতন্ত্র সংশোধন

  • নীতিমালা প্রণয়ন: অত্র গঠনতন্ত্রটি একটি কার্যকরী নীতি মালা হিসেবে কাজ করে। এটি একদম স্থায়ী ও আর্থিক পরিবর্তন ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন করা হবে না।
  • সংশোধনের প্রস্তাব: কোনো স্থায়ী সদস্য বা কার্যকরী কমিটির সদস্য গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রস্তাব নির্বাহী পরিচালক অথবা পরিচালনা পরিষদের নিকট পেশ করতে পারবেন। এছাড়া পরিচালনা পরিষদ বা প্রতিষ্ঠাতারা সংগঠনের প্রয়োজন সরাসরি সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারবেন।
  • সভায় আলোচনা ও ভোট গ্রহণ: সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব নিয়ে প্রথমে পরিচালনা পরিষদের সভায় আলোচনা করবেন। যদি পরিচালনা পরিষদ প্রস্তাবটি যুক্তিসঙ্গত মনে করেন, তবে তা বার্ষিক সাধারণ সভা বা বিশেষ সাধারণ সভায় উত্থাপন করা হবে।
  • সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য সাধারণ সভায় উপস্থিত কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) স্থায়ী সদস্যের সম্মতি বা ভোটের প্রয়োজন হবে। সাধারণ সদস্যদের আলোচনা শেষ করার সুযোগ থাকলেও ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না (শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত স্থায়ী সদস্যরা নেবেন)।
  • চূড়ান্ত অনুমোদন: সাধারণ সভায় পাস হওয়ার পর সংশোধনীটি প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যগণ স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেবেন। কোনো আইনি জটিলতা দেখা দিলে তা সংশোধনের পূর্বে আইন উপদেষ্টার মতামত গ্রহণ করতে হবে।
গঠনতন্ত্র সংশোধন
সংশোধন ও উন্নয়ন

সংগঠনের বিলুপ্তি ও সম্পদ হস্তান্তর

  • বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি: যদি সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হয়, চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো কারণে সংগঠন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরিচালনা পরিষদ বিলুপ্তির প্রস্তাব আনতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে।
  • বিলুপ্তির শর্ত: সভায় উপস্থিত ন্যূনতম তিন-চতুর্থাংশ (৩/৪) স্থায়ী সদস্যের স্পষ্ট সম্মতি এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থাকলে সংগঠনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা যাবে।
  • দায়-দেনা ও সম্পদ নিষ্পত্তি: বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর একটি 'নিষ্পত্তি কমিটি' গঠন করা হবে। সংগঠনের যদি কোনো ব্যাংক ঋণ, বকেয়া পাওনা বা সাংগঠনিক দায়-দেনা থাকে, তবে সংগঠনের বিদ্যমান তহবিল বা সম্পদ থেকে সবার আগে তা পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সংগঠনের কোনো অর্থ বা সম্পদ কোনো সদস্য, কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠাতাগণ নিজেদের ব্যক্তিগত মালিকানায় নিতে পারবেন না।
  • অবশিষ্ট সম্পদ মানবিক খাতে হস্তান্তর: দায়-দেনা পরিশোধের পর সংগঠনের তহবিল যে অর্থ অবশিষ্ট থাকবে এবং সংগঠনের যে সকল অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন: অফিস সরঞ্জাম, চিকিৎসা সামগ্রী, কম্পিউটার ইত্যাদি) থাকবে, তা কোনো সমজাতীয় মানবিক বা সমাজসেবামূলক সংস্থাকে দান করে দিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কলমাকান্দা এলাকার এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টকে এই সম্পদ প্রদান করা হবে যা রক্তদান বা দৃষ্ট সেবা নিয়ে কাজ করে।
সাংগঠনিক কাঠামো

আমাদের সংগঠন কাঠামো

সাংগঠনিক ও পদমর্যাদাগত কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ

◈ শীর্ষ পর্যায় ◈
উপদেষ্টা পরিষদসর্বনিম্ন ০৫ জন, আজীবন পদমর্যাদা
পরিচালনা পরিষদ০৬ থেকে ১৩ জন সদস্য, ৫টি বিভাগ
▬▬▬ ৫টি বিভাগ ▬▬▬
নির্বাহী বিভাগপরিচালক
প্রশাসনিক বিভাগপরিচালক
আইসিটি বিভাগপরিচালক
রক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগপরিচালক
হিসাব বিভাগপরিচালক
কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ১৩টি স্থায়ী পদ
এডমিন প্যানেলওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা
ইউনিয়ন কমিটি৮টি ইউনিয়নে
আঞ্চলিক কমিটিউত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম
◈ সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ◈
প্রতিষ্ঠাতা (Founder)সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ
◈ সহ-প্রতিষ্ঠাতা ◈
সহকারী প্রতিষ্ঠাতাCo-Founder
প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যFounding Member
◈ উপদেষ্টা পরিষদ ◈
প্রধান উপদেষ্টাChief Advisor
উপদেষ্টা পরিষদAdvisory Member
◈ নির্বাহী পর্যায় ◈
নির্বাহী পরিচালক/চেয়ারম্যানExecutive Director
উপ-নির্বাহী পরিচালকDeputy Executive Director
▬▬▬ ৫টি বিভাগের কাঠামো ▬▬▬
নির্বাহী বিভাগপরিচালক, সহকারী পরিচালক, সদস্য
প্রশাসনিক বিভাগপরিচালক, সভাপতি, সম্পাদক
আইসিটি বিভাগপরিচালক, প্রচার, আইটি সম্পাদক
রক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগপরিচালক, রক্ত সমন্বয়কারী
হিসাব বিভাগপরিচালক, অর্থ সম্পাদক
সংগঠনের অঙ্গীকার

আমাদের অঙ্গীকার

সংগঠনের অঙ্গীকার

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার নামে এই কাঠামোটি রচনা করছি ও গ্রহণ করছি যে, মানবতার কল্যাণ, দুরারোগ্য রোগীর জীবন রক্ষা ও একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন (KYBDF)-এর প্রতিষ্ঠাতা, কর্মকর্তা ও রক্তদানে গুরুত্বপূর্ণভাবে অবদান রাখার জন্য একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, রক্তদান, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন হিসেবে এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি ফোঁটা রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। কিন্তু কলমাকান্দা উপজেলায় সঠিক রক্তদান ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিন অনেক রোগী মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছেন। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা নিয়মিত রক্তের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন, প্রতারকদের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা রোগীর প্রয়োজনের সময় রক্তের অভাবে জীবন সঙ্কটে ফেলছেন।

আমরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করি, মাদকের বিষ্ফোরণ আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই আমাদের সংগঠনের মূলমন্ত্র "রক্তদানে এগিয়ে আসুন, মাদককে না বলুন" — এই বাণীকে সামনে রেখে আমরা কাজ করব। আমরা চাই, যুবকরা রক্তদানের মহান কাজে এগিয়ে আসুক এবং মাদককে চিরতরে দূরে সরিয়ে রাখুক।

এই গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা অঙ্গীকার করছি: সংগঠনের সিদ্ধান্ত হবে স্বচ্ছ ও সবার মতামতের সমন্বয়ে। কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য সংগঠনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে না। আমরা নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি কার্যকর করব, নতুন রক্তদাতা তৈরি করব, এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জন্য রক্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। আমরা থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার ও প্রসূতি রোগীদের জন্য বিশেষ রক্তব্যাংক গঠন করব।

আমরা সাংকল্পবদ্ধ — যতক্ষণ কলমাকান্দার কোনো রোগী রক্তের অভাবে মৃত্যুবরণ করে, ততক্ষণ আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কখনও থামব না, কখনও পিছু হটব না। মানবতার জয় হোক, কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাক বীরের মতো। ইনশাআল্লাহ।

আমাদের অর্জন

এক নজরে সংগঠন

৫৫+
মোট সদস্য
৫৫+
স্থায়ী সদস্য
৩+
বছরের পথচলা

সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র

বিস্তারিত জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন (শুধু পড়ার জন্য)

আমাদের ঠিকানা

প্রধান কার্যালয়: কলমাকান্দা উপজেলা সদর, নেত্রকোণা জেলা